1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. mdrubelmollah1989@gmail.com : Md.Rubel Mollah : Md.Rubel Mollah
November 30, 2023, 7:51 am

রূপাতলীতে যত্রতত্র গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার নামে রমরমা বাণিজ্য

  • আপডেটের সময় : Sunday, May 28, 2023
  • 64 ০ বার দেখছেন

 

বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকার প্রধান সড়কের পাশে পাঁচতলা একটি ভবনে তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসা’। ভেতরে গিয়ে জানা গেল, পুরো ভবন দেড় লাখ টাকায় ভাড়া নিয়ে প্লে থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত চলছে এই মাদ্রাসার কার্যক্রম। সেখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০০। কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, এসব অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার নামে চলছে রমরমা বাণিজ্য। তাই এসব মাদ্রাসা ও স্কুলে শিক্ষকের চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। এদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীরা জড়িত। এভাবেই এই এলাকার এক কিলোমিটারের আবাসিক এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠেছে ১৫টি মাদ্রাসাসহ প্রায় ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যাদের অধিকাংশের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই।

৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য শিক্ষক ৩৬ জন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঐ মাদ্রাসায় প্লে থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ-নবম শ্রেণিতে ভর্তি ফি ৮ হাজার, সংস্থাপন ফি ৭ হাজার এবং সেশন ফি ৮ হাজারসহ মোট ২৩ হাজার টাকা নেয়া হয়। এছাড়া অনাবাসিক ক্ষেত্রে ঐ সকল বিষয়ের ওপর সর্বমোট ১৬ হাজার টাকা নিচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিমাসে আবাসিক টিউশন ফি ২ হাজার টাকা, অনাবাসিক ১২০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়াও ভর্তি ফরম ৫০০, দিন ও রাতের কোচিং ১০০০, পরীক্ষার ফি (বার্ষিক) প্লে-২য় শ্রেনী ২ হাজার ২০০, ৩য় থেকে ৯ম ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং প্লে থেকে দ্বিতীয় ড্রেস (মাদ্রাসা-১ সেট, খেলা- ১ সেট) ২ হাজার ৩০০ ও ৩য় থেকে ৯ম ২ হাজার ৫০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।
তানযীমুল উম্মাহ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তালহা উদ্দিন বলেন, এই মাদ্রাসায় বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে ছাত্র-ছাত্রী এসে ভর্তি হয়েছে।

তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসার কয়েক গজ দূরে মিসবাহুল কোরআন মডেল মাদ্রাসা। স্থানীয় একটি ভবনে ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। কিন্তু এ মাদ্রাসার বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই বলে স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম।
তিনি বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলরসহ অনেকে তাদের পরিচালনা কমিটিতে রয়েছেন। তার দাবি, অন্যান্য মাদ্রাসার চেয়ে তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান ভালো।

এর পাশে আল হেরা কিন্ডার গার্ডেনে ১৫০ শিক্ষার্থীর পড়ানোর জন্য দায়িত্বে রয়েছেন ৭ জন শিক্ষক। ৫ তলা একটি ভবনের নিচতলায় ভাড়া নিয়ে চলে তাদের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আলী আকবর বলেন, মাদ্রাসা বাড়লেও পাঠদানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

অপরদিকে আল কারীম ইসলামিক ইনস্টিটিউটে ৬৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এই মাদ্রাসায় শিক্ষকের সংখ্যা ১০ জন। প্লে থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে নিয়ম থাকলেও ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি করানো হয়। আবাসিক ক্ষেত্রে ভর্তি ফরম, ভর্তি ফি ও আবাসন ফি (এককালীন) মোট ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও অনাবাসিক ১০ হাজার ৫’শ টাকা নেয়া হয়। এছাড়া টিউশিন ফি, মাসিক খাবার বিল, হোস্টেল চার্জ, পাঠাগার, লন্ডি ফি এবং নাস্তার বিল বাবদ মোট নেয়া হচ্ছে জন প্রতি ১০ হাজার ৫০০ টাকা করে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সহকারি প্রধান শিক্ষক নোমান হোসেন বলেন, বর্তমানে এই এলাকায় ৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের চেয়ে আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষার মান অনেক উন্নত।
রূপাতলী হাউজিং কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, এক কিলোমিটারের কম আয়তনের এই হাউজিংয়ে বর্তমানে কমপক্ষে তিন হাজার মানুষ বসবাস। এখানে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়। কিন্তু এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকতেও যে হারে মাদরাসা ও কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে, তা গুনে শেষ করার মতো না। তার অভিযোগ, সরকারি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় যত্রতত্র এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা শেষে কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের সুযোগ কেমন জানতে চাইলে আল মুহিব নূরাণী কিন্ডারগার্টেন মাদ্রারাসার প্রধান শিক্ষক নূরজ্জামান বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখান থেকে গিয়ে মসজিদের ইমামতি করেন। অনেকে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা, ব্যবসা ও আরবি বইয়ের অনুবাদকের কাজ করেন। তার দাবি, বেতন নিয়ে তাঁরা চিন্তিত নন। দীনের শিক্ষা দিচ্ছেন এটাই বড় তৃপ্তি। তাছাড়া অনেক পুরোনো শিক্ষার্থী ভালো উপার্জন করলে শিক্ষকদের হাদিয়া পাঠান। অনেকে ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করেন এভাবেও কিছু আয় হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠা করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী, ব্যবসায়ী ও আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানসহ সম্পদশালী পরিবারের সদস্যরা। তাই এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে কথা বলেন না।

এদিকে এসব অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে কী পড়ানো হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
নগরের সাগরদি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রারাসার প্রধান শিক্ষক আশ্রাব আলী বলেন, অনেকে তাদের সন্তানদের ধর্মীয় চিন্তায় পড়ালেখা করাতে চান। তাই শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসামুখী হয়। কিন্তু সব প্রতিষ্ঠানের মান ভালো নয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রারাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহাম্মেদ বলেন, সব মাদ্রাসা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ব্যক্তিগত ভাবে অনেক মাদ্রাসা পরিচালিত হচ্ছে। তাই তারা কিছু করতে পারছেন না।

জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কোথায় পাঠদান করাবেন, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। অনেক মাদ্রাসা ব্যক্তিগত ভাবে প্রতিষ্ঠিত। তার দাবি কিছু কেজি স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষার মান ভালো।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন।

 

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
IT Cornerbd.com Call:01711073884
Theme Customized By BreakingNews